প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২০, ২০২৬, ৩:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ৭:৪৫ পি.এম

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে পুরো নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা ময়লা-আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এ সমস্যা এক দিন বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ সমস্যার সমাধানের সঙ্গে যুক্ত। পরিবর্তন আনতে সময় লাগলেও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ও সদিচ্ছা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, তিনি বিভিন্ন স্থানে গেলে সেখানকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও একইভাবে সমস্যাগুলো শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নিলে নগরীর চিত্র বদলানো সম্ভব।
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে শহরটির পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশের পরিচ্ছন্ন শহর দেখে অনেকেরই মনে হয়, ঢাকাও যদি এমন হতো! কিন্তু শুধু আফসোস করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের বিষয়টি তুলে ধরেন। ওই কর্মকর্তা বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা হলে ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে ওই কর্মকর্তা জানান, আগের তুলনায় শহরের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।’
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি।
এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও দেখেন তিনি।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।