• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন
Headline
যাত্রীদের লাইভ লাগেজ মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শনে বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী – দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরলস কাজ করছে – নারায়ণগঞ্জে আইজিপি দুই বিমানবন্দরে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার রণবীর নয়, কার সঙ্গে পূজা দেখতে গেলেন আলিয়া? সালমানের সঙ্গে যে কাজ করবে সেই পরবর্তী লক্ষ্য (বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি) জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর তিন জেলায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাক হোসেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

গরিব মানুষের জন্য ঢাকা শহর দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে, দেখার কেউ নেই-

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

Link Copied !

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা। রাজধানীর মেরাদিয়া বাজারে এসেছেন তাইফুর রহমান। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। তাইফুর রহমান সঙ্গে কথা হয় সেখানে। তিনি বলেন, ‘বাজারের ওপর কারও নিয়ন্ত্রন নাই। এখানে একবার দাম বাড়ালে সেটি আর কমতে চায় না। একটা কোন সবজি নাই যে ৮০ টাকার নিচে। শুধু পেঁপে ৩৫-৪০ টাকা কেজি। আর সব সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে।’

তিনি বলেন, ‘গরিব মানুষের জন্য ঢাকা শহর দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তেল গ্যাসের দাম বাড়ার পর সব জিনিসপত্রের দাম বাড়তেছে। এগুলো দেখার কেউ নেই।’

বাজার করতে আসা হাসিনা আফরোজ নামের আরেক গৃহিণী বলেন, ‘দিন যতই যাচ্ছে ততই আমাদের জন্য কঠিন হয়ে আসছে। এখন সবজি, মাছ মাংসের যা দাম তাতে আমরা কত বেলা মাছ-মাংস খেতে পারি? আমরা সপ্তাহে একবার মাংস খেতে পারছি না। মাছ কিনলেও ইচ্ছেনুযায়ী কেনা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘দিন কঠিন হয়ে আসতেছে আমাদের মতো নিম্নবিত্তদের জন্য।’

তাইফুর রহমান কিংবা হাসিনা আফরোজ নয়, নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তদের জন্যও দিন যাপন করা এক প্রকার কঠিন হয়ে পড়ছে। সবজি, মাছসহ নিত্যপণ্যের যেভাবে দাম বাড়ছে তাতে করে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকেছে না।

 

রাজধানীর মেরাদিয়া বাজার— বনশ্রী, আফতাবনগরসহ আশপাশের এলাকার অন্যতম বড় বাজার। মাছ, মাংস, সবজিসহ নানা নিত্যপণ্যের প্রতিদিনের বাজার। আর বুধবার বসে হাট। হাট মানে একেবারে গ্রামীণ পরিবেশ। গ্রামের হাটে যে ধরনের পণ্য বিক্রি হয় এখানেও আসে সেই রকম পণ্য। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ পণ্য বিক্রি করতে আসে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পণ্যের দাম বাড়তির দিকে। পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়ছে।

সবজি বিক্রেতা সুমন জানালেন, শুধুমাত্র বেগুনের দাম কমেছে। বেগুন এখন ২২০ টাকা। এছাড়া আর কোনও সবজির দাম কমেনি।

সুমনের দোকানে যে সবজি রয়েছে সেগুলোর মধ্যে আলু প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, সিম ২২০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, পেপে ৩৫-৪০টাকা, ভেন্ডি ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিজ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সুমন জানালেন, সবজির দাম একটু বাড়তির দিকে। আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়, এ কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।

এতো গেলো সবজির বাজার। মুরগির বাজারের চিত্রও একই রকম। মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুরগির দাম বাড়তির দিকে। প্রতিদিন বাড়ছে মুরগির দাম। বৃহস্পতিবার কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা প্রতি কেজি দরে। এছাড়াও ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকায়। লেয়ার ৩৬০ টাকা।

ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন বাড়ছে মুরগির দাম। আজ ৩৩০ তো কাল ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে হবে। পরিবহণ খরচ বাড়ছে এ কারণে বাড়ছে মুরগির দাম। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরবরাহও কম।’

 

মাছের বাজারে দেখা যায়, তাজ রুই সাইজভেদে প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, তেলাপেয়া ২৩০, পাঙ্গাস ২৫০-২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট বড় নানা প্রকারের মাছ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে নানা দামে বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি  হচ্ছে।

এদিকে সকালে বাজার করতে আসা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাজার তো ঊর্ধ্বমুখী। মাছের বাজার চড়া। তাজা রুই ২৮০-৩৩০ টাকার মধ্যে ছিল প্রতি কেজি। এখন ৪০০ ছাড়িয়ে গেলো। অন্যান্য মাছের দামও চড়া। আর সবজির দাম আরও কমা উচিৎ। কিন্তু বাড়ছে।’

গৃহিণী আফরোজা বেগম বলেন, ‘মেয়েকে স্কুলে দিয়ে বাজারে আসলাম। বাজারের যা অবস্থা আমরা আগে যেখানে বেশি কিনতাম এখন একটু কমই কিনতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই বাজারে লাউ ৫০-৬০ টাকাও ছিল গত সপ্তাহে। এখন ৮০ টাকার নিচে লাউ নেই। এছাড়া অন্যান্য সবজি ১০ থেকে ২০ পর্যন্ত বাড়তি।’

তার মতে, এই বাজারে কিছুটা কম দরে পাওয়া গেলেও তা খুবই সামান্য। বলেন, ‘দিন যতই যাচ্ছে দাম বাড়ছে। আর শুক্রবার তো ইচ্ছেমতো দাম হাঁকান।’

তিনি বলেন, ‘লালশাকের আঁটি ১৫ টাকা কিনেছি ক’দিন আগেও। এখন ২৫ টাকা কিনতে হচ্ছে। এছাড়া পুঁইশাক ৫০ টাকা আর লাউপাতা ৬০ টাকা আঁটি কিনতে হচ্ছে।’ তাহলে আমাদের মতো পরিবারের লোকজন যাবে কোথায়, প্রশ্ন গৃহিণী আফরোজার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category