• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
Headline
যাত্রীদের লাইভ লাগেজ মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শনে বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী – দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরলস কাজ করছে – নারায়ণগঞ্জে আইজিপি দুই বিমানবন্দরে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার রণবীর নয়, কার সঙ্গে পূজা দেখতে গেলেন আলিয়া? সালমানের সঙ্গে যে কাজ করবে সেই পরবর্তী লক্ষ্য (বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি) জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর তিন জেলায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাক হোসেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৬ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

Link Copied !

সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। গতকাল শনিবারের এ হামলা চলতি সপ্তাহে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে তৃতীয় হামলা বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

এদিকে হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি গতকাল শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের হামলাটি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই হামলাটি হয়। দেশটির হুমকি সতর্কীকরণ ব্যবস্থাতেও কোনো সতর্কবার্তা জারি হয়নি।

এর আগে চলতি সপ্তাহে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও দুই দফা হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় চারজন নিহত হন এবং রানওয়েতে থাকা সৌদি একটি বাণিজ্যিক বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলা সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দুর্বলতাও সামনে এনেছে। তবে হামলার জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, ইতিমধ্যে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তারা শত শত হামলা চালিয়েছে। হুতিরা এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার দাবি করেছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

এদিকে হামলার পর গতকাল শনিবার রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হুতিদের মিডিয়া অফিসের প্রধান হামলার পর এক্সে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, তারা ‘রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে’। এর আগে হুতিরা বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানায় এবং সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক অভিযানের এলাকা ঘোষণা করে।

শনিবারের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়, ওয়াশিংটন হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যোগ দেবে কি না।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো যোগ দিতে পারি। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করে দেখব। সাম্প্রতিক হামলার খবর আমরা মাত্র পেয়েছি। আমরা সিদ্ধান্ত নেব। এসব ব্যাপারে আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিই।’

শনিবার বিমানবন্দরে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি বিস্ফোরণের সময় সেখানে ছিলেন। তিনি বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের ভেতরে মাটিতে বেশ কয়েকজন আহত মানুষকে পড়ে থাকতে দেখেন।

বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরের দিকে এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যেতে দেখা যায়। রয়টার্স যাচাই করা একটি ভিডিওতেও বিমানবন্দরে অ্যাম্বুলেন্স দেখা গেছে।

আহত এক যাত্রী রয়টার্সকে জানান, বিমানবন্দরের বাইরে আকাশে তিনি কোনো একটি বস্তু উড়ে যেতে দেখেন। এরপর একটি প্রস্থান গেটের কাছে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে।

রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা হামলার বিষয়ে অবগত এবং সব মার্কিন নাগরিককে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরব ২০১৫ সালে আরব জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ায়। লক্ষ্য ছিল ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে হুতিদের সরিয়ে দেওয়া। এর আগের বছর হুতিরা সানা দখল করে সরকারি বাহিনীকে সরিয়ে দিয়েছিল।

দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় পড়ে। লড়াই ও দুর্ভিক্ষে ইয়েমেনে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হন। ২০২২ সালে সৌদি আরব হুতিদের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। এরপর সংঘাত অনেকটাই স্থগিত হয়।

তবে চলতি বছরে সেই যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এরপর হুতিরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি দখল করে নেয়।

হুতিদের কাছ থেকে ওই এলাকা পুনর্দখলের জন্য সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার চলতি সপ্তাহে নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত সেখানে সরকারি বাহিনীর অগ্রগতি ধীর। এর মধ্যেই ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজ অবরোধ করেছে হুতিরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category