• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
যাত্রীদের লাইভ লাগেজ মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শনে বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী – দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরলস কাজ করছে – নারায়ণগঞ্জে আইজিপি দুই বিমানবন্দরে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার রণবীর নয়, কার সঙ্গে পূজা দেখতে গেলেন আলিয়া? সালমানের সঙ্গে যে কাজ করবে সেই পরবর্তী লক্ষ্য (বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি) জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর তিন জেলায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাক হোসেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

শেরেবাংলা নগরে হবে নতুন সচিবালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৮ Time View
Update : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

Link Copied !

রাজধানীর আবদুল গনি রোড থেকে সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থপতি লুই আই কানের নকশায় নতুন সচিবালয় নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে নতুন সচিবালয়ের তিনটি নকশা তৈরি করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটি নকশা চূড়ান্ত করে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই এ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায় সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় নির্মাণের তিনটি নকশা উপস্থাপন করে স্থাপত্য অধিদপ্তর। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করা হয়। ওই নকশার ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবদুল গনি রোড থেকে শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় সরে গেলে বর্তমান সচিবালয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিস, পুলিশ সুপার (এসপি) অফিসসহ পুরান ঢাকায় যেসব সরকারি কার্যালয় রয়েছে, সেগুলোকে স্থানান্তর করা হতে পারে বলেও জানা গেছে।

বৈঠকে উপস্থিত স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের বিষয়ে বৈঠকে তিনটি আলাদা নকশা উপস্থাপন করা হয়। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। এ নকশার ভিত্তিতে প্রকল্প তৈরি করা হবে। নকশাগুলো জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকেও উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সেখানে সড়কের প্রশস্ততা ও কী পরিমাণ যানবাহন চলাচল করে, সেসব বিষয়েও জরিপ করতে হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নকশা তৈরি করা হয়েছে। এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে সংসদ ভবনের মতো কোনো ফটক না থাকে।

এদিকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত করতে গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা কমিশনকে চিঠি দিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহে পরিকল্পনা কমিশনে এ প্রকল্প নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পের কাজ শুরু করে সরকারের মেয়াদে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে চায় সরকার।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও কয়েকবার সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে এজন্য ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ হয়। তখন ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানের উত্তর দিকে এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে, যেখানে প্রতি বছর বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে ৩২ একর জমিতে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কথা ছিল। জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল পরিকল্পনা অনুসরণ করে এ স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। নকশা অনুযায়ী, ১৪তলা ভিতের ওপর নয়তলাবিশিষ্ট চারটি মূল ভবন নির্মাণের কথা ছিল।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনসহ শেরেবাংলা নগরের মূল নকশা দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার। বিদ্যমান সচিবালয়ের ভেতরেই একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি সচিবালয়ের পশ্চিম পাশে পরিবহন পুল ও জিপিও এলাকায় নতুন সচিবালয় তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

পরে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সচিবালয় স্থানান্তর নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবালয়ের ভেতরে ২১ তলা একটি ভবন নির্মাণে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়।

গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় প্রকল্পটি উত্থাপন করা হলে অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। ওই সভায় সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও স্থাপত্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এরপর গত পাঁচ মাসে সচিবালয় স্থানান্তরের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পর্যালোচনা শেষে গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। স্থাপত্য অধিদপ্তরের তিনটি দল আলাদাভাবে তিনটি নকশা তুলে ধরে। সেখান থেকে একটি নকশা চূড়ান্ত করে প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category