• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পূর্বাহ্ন
Headline
যাত্রীদের লাইভ লাগেজ মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শনে বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী – দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরলস কাজ করছে – নারায়ণগঞ্জে আইজিপি দুই বিমানবন্দরে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার রণবীর নয়, কার সঙ্গে পূজা দেখতে গেলেন আলিয়া? সালমানের সঙ্গে যে কাজ করবে সেই পরবর্তী লক্ষ্য (বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি) জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর তিন জেলায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাক হোসেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

এ বছরই এয়ারবাসের অন্তত একটি উড়োজাহাজ চায় বাংলাদেশ: বিমানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

Link Copied !

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের মধ্যেই এয়ারবাসের অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেছেন, এয়ারবাসের নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের মধ্যে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তিকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক চুক্তি নয়। এর মাধ্যমে বিমানকে আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত একটি এয়ারলাইন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বিমানের একটি উড়োজাহাজ বিশ্বের কোনো আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পৌঁছালে তার সঙ্গে বাংলাদেশের নামও সেখানে পৌঁছে যায়। দেশের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আকাশপথের চাহিদাও বাড়ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেশের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রী অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে যাতায়াত করেন। তাই দেশের নাগরিকদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিজস্ব এয়ারলাইনসের মাধ্যমে পরিবহনের জন্য বিমানের বহর বাড়ানো ও আধুনিকায়ন জরুরি।

এয়ারবাসের নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বিমানের জন্য রুট ও যাত্রীসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী বহর গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে উড়োজাহাজের সংকটের কারণে যাত্রীদের চাহিদা পূরণে বিমানকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

এ কারণে এয়ারবাসের আঞ্চলিক পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তার প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ বাংলাদেশকে সরবরাহ করা হোক।

বিমানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্যারিয়ারে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য এয়ারবাসের পাশাপাশি বোয়িংয়ের সঙ্গেও কাজ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক বহর, রুট ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ উদ্দেশ্যে দেশে মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও) সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এ প্রকল্পে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের এয়ার কার্গো খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৭ সালের জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কার্গো ও মেইলকে উচ্চঝুঁকির তালিকায় রেখেছে। এ বিষয়ে ইইউর উদ্বেগ দূর করতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টসের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে ২০২৬ সালের ১৭ জুলাই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে কার্গো পরিবহনের ওপর থাকা বিধিনিষেধ দ্রুত তুলে নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চান তিনি।

বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নতুন এয়ারবাস বহরকে শক্তিশালী করবে। তবে শুধু উড়োজাহাজ দিয়ে একটি এয়ারলাইনকে ভালো অবস্থানে নেওয়া সম্ভব নয়। বিমানের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কর্মীদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের ওপর।

তিনি বলেন, প্রতিটি যাত্রীকে সেবা দেওয়া, প্রতিটি ফ্লাইট পরিচালনা এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই বিমানে নিরাপত্তা, দক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা, সততা ও উৎকর্ষের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সারাহ কুক, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শারলে, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়েগা ওচহোওয়া দি চিনচিত্রু, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়োম ফোরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category