• মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
Headline
যাত্রীদের লাইভ লাগেজ মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শনে বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী – দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নিরলস কাজ করছে – নারায়ণগঞ্জে আইজিপি দুই বিমানবন্দরে প্রায় ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার রণবীর নয়, কার সঙ্গে পূজা দেখতে গেলেন আলিয়া? সালমানের সঙ্গে যে কাজ করবে সেই পরবর্তী লক্ষ্য (বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি) জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর তিন জেলায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাক হোসেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকের এমডির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

অভিজিৎ দীপ দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৪ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

Link Copied !

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানের ভেতর থেকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্ধারিত বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছানোর পর এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সিজেপির আরও দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও আটক করা হয়।

এর আগে ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগ্রামের নিজ বাসা থেকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোট চুরি এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি।

দিল্লি বিমানবন্দরে পুলিশের আটকের সময় অভিজিৎ নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার শুরু করেন। বিমানের ভেতরে পুলিশ সদস্যদের ওঠার ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশি অভিযানের সময় বিমানের ভেতরে হট্টগোল শুরু হয়। সিজেপির সদস্যরা যাত্রীদের বিমান থেকে নামার পর ব্যবস্থা না নিয়ে কেন ভেতরেই পুলিশ অভিযান চালিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

নারী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা আমাদের নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন। গ্রেপ্তার করুন, আমরা ভয় পাই না।’

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা

যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ।

বিক্ষোভের আগে রাতভর ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া শত শত ট্রেন বাতিল এবং দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত ১০টা থেকে বিক্ষোভস্থলের চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন অন্য রাজ্যের ২৫০টির বেশি ট্রেন এবং স্থানীয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে অভিজিৎ বলেছিলেন, বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাঁর সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেবেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, জনদুর্ভোগের আশঙ্কায় মেট্রো, রেল ও সড়ক চলাচল বন্ধ করে দেওয়াও কি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে না?

যন্তর মন্তরে সাত স্তরের ব্যারিকেড

পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিক্ষোভকারীদের নয়াদিল্লি জেলায় প্রবেশ ঠেকানো এবং নিষিদ্ধ এলাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া।

যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরসহ প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নজরদারির জন্য শব্দ ধারণের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যন্তর মন্তরে যাওয়ার সড়কে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। শেষ দিকের কয়েকটি ব্যারিকেড ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সেগুলো ভাঙা কঠিন হয়।

মাইকিং করে মানুষকে বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও আবাসিক সমিতিগুলোকে বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার বিষয়টি প্রচার করতে বলা হয়েছে। হোটেল, লজ ও ভাড়া বাসায়ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিক্ষোভের প্রতিটি ঘটনা নথিবদ্ধ করার উদ্যোগ

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ভূমিকা ও ঘটনাপ্রবাহ নথিবদ্ধ করতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের শরীরে লাগানো ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।

এ ছাড়া ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category